আফরোজা ও তাঁর পরিবারের গবাদিপশুপালন পুনরায় শুরু

৩২ বছর বয়সী আফরোজা বেগম একজন দরিদ্র মহিলা এবং তিনি তাঁর স্বামী মোঃ তাজুল ইসলামের সঙ্গে থাকেন। তিনি নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। দুই ছেলের মধ্যে একজন চতুর্থ শ্রেণি ও অন্যজন প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। তাঁর মেয়েটি পড়ছে নবম শ্রেণিতে। সাইক্লোন-সিডরে তিনি তাঁর দুধেল গাভীটি হারিয়েছেন। তাঁর স্বামী একজন দিনমজুর, কায়িক পরিশ্রমের বিনিময়ে দিনমজুরি করে কোনোমতে জীবন যাপন করেন। আফরোজা গরুর দুধ বিক্রি করে তাঁর স্বামীকে সাহায্য করতেন। সিডরের পর তিনি তাঁর স্বামীকে আর সাহায্য করতে পারতেন না এবং স্বামীর রোজগার দিয়ে কিভাবে সংসার চালাবেন ভেবে পেতেন না, কারণ তিনি সংসারের খরচ চালাতে সক্ষম ছিলেন না। তাঁর এ নাজুক অবস্থা বিবেচনা করে ভিওএসডি তাঁকে সুদমুক্ত ঋণপ্রদানের জন্যে নির্বাচন করে। ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫,০০০.০০ টাকা। ঋণের টাকা দিয়ে তিনি বাছুরসহ একটি দুধেল গাভী কিনলেন। দিনে তিনি ৪কেজি দুধ পান এবং বাজারে বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৩৫.০০ টাকায় অর্থাৎ দৈনিক তিনি ১৩০.০০ টাকা আয় করেন। দুধ বিক্রির টাকা দিয়ে কিস্তির মাধ্যমে তিনি ঋণের টাকা পরিশোধ করছেন। নিজের ও সংসারের প্রয়োজনেও তিনি খরচ করেন এ টাকা। আফরোজার এ সাফল্য দেখে গ্রামের অনেকে এখন গাভী পালনের জন্যে এগিয়ে এসেছেন। সুদমুক্ত ঋণপ্রদানের জন্যে আফরোজা ভিওএসডি ও এফকেপি-র কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি এর খুব ভালো ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন, কারণ ঋণ পরিশোধের পর তিনি বাছুরসহ একটি গাভীর মালিক হবেন এবং তিনি তখন আরো বেশি উপার্জন করতে পারবেন।